কর্জে হাসানা
অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা।
কর্জে হাসানার নীতিমালা
সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী সমাজ গড়তে আমাদের বিশেষ উদ্যোগ—কর্জে হাসানা। এই কর্মসূচি কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে, তা বিস্তারিত জানুন।
কর্জে হাসানা কী? কর্জে হাসানা হচ্ছে সুদমুক্ত ঋণ। আমাদের কর্জে হাসানা পদ্ধতিতে কোনো গোপন খরচ বা অতিরিক্ত ফি নেই। আপনি যা ঋণ নেবেন, ঠিক সেই পরিমাণ অর্থই ধাপে ধাপে ফেরত দেবেন। তবে এই মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আপনি চাইলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা অন্য কোনো অভাবী মানুষের উপকারে আসবে।
‘কে আছে, যে আল্লাহকে দেবে উত্তম ঋণ? তাহলে তিনি বহুগুণে একে তার জন্য বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।’ - [সূরা হাদিদঃ ১১] হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মিরাজের রাতে আমি জান্নাতের একটি দরজার ওপর লেখা দেখলাম, সদকায় ৭ গুণ সওয়াব এবং কর্জে (ঋণে) ১৮ গুণ। আমি বললাম, হে জিবরাঈল! কর্জ সদকার চেয়ে উত্তম কেন? তিনি বললেন, কারণ ভিক্ষুক তার কাছে (সম্পদ) থাকতেও চায়। আর কর্জদার প্রয়োজন ছাড়া কর্জ চায় না’ - [ইবনে মাজাঃ ২৪৩১]
আমরা কীভাবে কর্জ দেই? আমাদের সমাজের স্বাবলম্বী মানুষেরা তাদের ইচ্ছা ও সামর্থ অনুযায়ী কিছু অর্থ আমাদের ফান্ডে জমা রাখেন। আমরা সেখান থেকে ফান্ডে টাকা থাকা সাপেক্ষে উপযুক্ত প্রার্থীকে কর্জ দিয়ে থাকি। আশেপাশের গ্রামের যে কেউ আমাদের ফর্ম পূরণ করে অথবা আমাদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আমরা আবেদন পত্র পর্যবেক্ষণ করে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে কর্জ প্রদান করে থাকি।
ঋণ নেয়ার শর্তসমূহ- আপাতত আমরা ঘনশ্যামপুর গ্রামে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। যে কেউ নিম্নোক্ত শর্ত পূরণ করে কর্জ নিতে পারবেন- - ঘনশ্যামপুর গ্রামে স্থায়ী বসবাসকারী হতে হবে। - ঋণ নেয়ার সময় দুইজন পুরুষ জামিন হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে ও তাদের সাক্ষর নিতে হবে। - সুদকে মন থেকে ঘৃণা করতে হবে ও ভবিষ্যতে সুদী কারবারে না জড়ানোর অঙ্গীকার করতে হবে।
কাদের জন্য এই ঋণ? অনেকেই হঠাৎ বিপদে পড়েন, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও টাকার জোগান করতে পারেন না। অবশেষে বাধ্য হয়ে সুদী এনজিও বা মহাজনের কাছে যেতে হয়। এই শ্রেণীর মানুষকে সুদ থেকে বাঁচানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া নতুন ব্যবসায়ের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ, ঘর মেরামত, রিক্সা-ভ্যান ইত্যাদি মেরামত বা ক্রয়, সেলাই মেশিন ক্রয়, জমির সার-বীজ ক্রয় এবং সেচ, সন্তানের লেখাপড়া বা চিকিৎসা কাজে, মেয়ের বিয়ের জন্য সহ প্রয়োজনীয় নানান কারণে আমরা এই ঋণ প্রদান করবো ইনশাআল্লাহ। স্বচ্ছল ব্যক্তিও হঠাৎ প্রয়োজনে আমাদের থেকে কর্জ নিতে পারেন।
ঋণের সময়সীমা ও মেয়াদ- এটি একটি সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ। সমাজের প্রান্তিক দরিদ্র শ্রেণী এবং সংকটে নিপতিত মানুষদের জন্য এই ঋণ। সাধারণভাবে এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা মাত্র ৫ হাজার টাকা। ২-৩ মাস মেয়াদে সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিতে কর্জ পরিশোধ করতে পারবেন। কোন কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর্জ পরিশোধ করতে না পারলে কোন চার্জ দিতে হবে না, কর্জ গ্রহীতাকে কর্জ পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। তবে অবশ্যই আমাদের প্রতিনিধিকে সময়ের পূর্বে অবগত করতে হবে।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আন-নান্তা’ঈন ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক-সেবামূলক সংগঠন। ৫৭ নং সূরা আল হাদীদ ১১ নং আয়াত ও সূরা ফাতিহা ৫ নং আয়াত উপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতসমূহ থেকে কিছু অংশ সমাজের অন্যদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার সামান্য প্রচেষ্টাই আন-নাহুতাঈন ফাউন্ডেশন। আমরা এর মাধ্যমে একজন অন্যজনের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে চাই, সবাই মিলে সুন্দর ও সৌহার্দপূর্ণ সমাজ গড়ার অংশীদার হতে চাই। এবং সেটা কুরআন ও সুন্নাহকে অনুসরণ করে আল্লাহর সাহায্যে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই।